ইসরাইলি হামলায় গাজা ভূখণ্ডে গত ২৪ ঘন্টায় আরও প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এছাড়া এই হামলায় আহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যাও প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। আজ সোমবার (১১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নিহত ফিলিস্তিনিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়াও রোববার ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখ-জুড়ে ইসরাইলি অভিযান অব্যাহত ছিল। এছাড়া উত্তর গাজাসহ বিমান হামলায় সমতল হয়ে যাওয়া এলাকাগুলোতে এবং ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্থল অভিযান চালানো এলাকাগুলোতেও ইসরাইলি সেনারা হামাস যোদ্ধাদের কাছ থেকে প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল জাজিরাকে বলেছেন, গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ২৯৭ জন নিহত এবং আরও ৫৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভূখন্ডটিতে মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এদিকে তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদোলু জানায়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধে একটি শর্ত দিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের এক মুখপাত্র বলেন, হামাস যদি আত্মসমর্পণ করে এবং সব বন্দিকে মুক্তি দেয় তবেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।
ওফির গেন্ডেলম্যান নামের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এ মুখপাত্র বলেন, শুধু একটি শর্তে যুদ্ধ শেষ হতে পারে তা হচ্ছে- হামাস নেতাদের আত্মসমর্পণ এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সৈন্যরা ইয়াহিয়া সিনওয়ার নামের হামাস নেতার বাসা ঘিরে ফেলেছে এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করাই আমাদের লক্ষ্য। গেন্ডেলম্যান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনীয় গুতেরেসের যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
এর আগে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি তোলা হয়। এই প্রস্তাবের পক্ষে পরিষদের ১৩ সদস্য ভোট দেয়। তবে পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দেয়। আরেক স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য ভোটদানে বিরত ছিল।
পাঁচটি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী সদস্য নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত। স্থায়ী পাঁচ দেশের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। তাদের কেউ কোনো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দিলে তা নিরাপত্তা পরিষদে আর পাস হয় না।